ঈশ্বরদীতে লাগামহীন চুরি বৃদ্ধিতে অতিষ্ঠ জনজীবন, পুলিশ সুপার ও ওসির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
ঈশ্বরদী থেকে বিশেষ প্রতিনিধি জানান ।। উত্তর,দক্ষিন ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বলে খ্যাত ঈশ্বরদী ও ঐতিহাসিক পাকশী অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে হোন্ডাসহসহ নানা প্রকার চুরি ও ছোটখাটো ছিনতাইয়ের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক মোটরসাইকেল , বৈদ্যুতিক তার, বাসাবাড়ির মালামাল এবং গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। জনাকীর্ণ বিনোদন স্পট পদ্মানদীর হার্ডি্জঞ সেতু এলাকা, বাজার,ব্যাংকের সামনে,ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে অথবা বাড়ির আঙিনা থেকে মুহূর্তের মধ্যেই উধাও হয়ে যাচ্ছে মোটরসাইকেল। সংঘবদ্ধ চোরচক্র মাস্টার কি (নকল চাবি) ব্যবহার করে নিমেষেই এসব যানবাহন নিয়ে চম্পট দিচ্ছে। রাতের আঁধারে গ্রামীণ সড়ক ও ফসলের মাঠের বৈদ্যুতিক তার কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে কেবল গ্রাহকরাই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন না, বরং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় ব্যাহত হচ্ছে সাধারণের জীবনযাত্রা। সাধারণ কৃষকদের গোয়ালঘর টার্গেট করে পিকআপ ভ্যান নিয়ে হানা দিচ্ছে চোরেরা। শুক্রবার বিকেলে হার্ডিঞ্জসেতু এলাকা থেকে শামীমের সিবি শাহিন ১২৫ সিসি হোন্ডা চুরি হয়। এলাকাবাসী জানিয়েছে, রবিবার প্রকাশ্য দিবালোকে পাকশী মেরিন পাড়া থেকে মালিককে ভয় দেখিয়ে পিকআপভ্যানে করে একটি গাভী গরু নিয়েগেছে চোর সিন্ডিকেডের সদস্যরা। ফাঁকা বাসা-বাড়ি তো বটেই, মানুষের উপস্থিতিতেও সুকৌশলে জানালা দিয়ে প্রবেশ করে মোবাইলসহ অন্যান্য মালামাল চুরি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পূর্বে ঈশ্বরদী ও পাকশী অঞ্চলকে শান্তিপূর্ণ মনে করা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
রাতের বেলা তো বটেই, দিনের আলোতেও চুরি হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ এখন ঘরে বা বাইরে কোথাও স্বস্তি পাচ্ছেন না। চুরির এই হিড়িকের পেছনে স্থানীয় মাদকাসক্তদের তৎপরতা এবং কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করছেন অনেকে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।" ঈশ্বরদী ও পাকশী অঞ্চলের সর্বস্তরের জনগণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে পাবনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) আশু ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। ঈশ্বরদী ও পাকশী অঞ্চলের প্রতিটি পয়েন্টে পুলিশের নৈশকালীন টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা , চোরচক্রের মূল হোতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা ,চোরাই মাল কেনাবেচার সাথে জড়িত স্থানীয় সিন্ডিকেটগুলোকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান জানান, চুরি রোধে এবং আইন শৃংখলার উন্নয়নে পুলিশী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। খুবশীঘ্রই চুরির সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।#তাং-২০-০৭০২৬

No comments